গিরিদর্পণ সম্পাদকের পাশে রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সহ সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ আজ স্বয়ংসর্ম্পূণ: সৈয়দা রাজিয়া মোস্তফা মহানবীর রওজা মোবারক সরানোর খবর ভিত্তিহীন চট্টগ্রামে দেশরত্ন পরিষদের আলোচনা সভা স্থগিত ঘোষনা চট্টগ্রামে দেশরত্ন পরিষদের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও মেজবান শনিবার অ্যাদ্দিনে, এক ফ্রেমে আল কায়েদার ঘোষণায় সরকার বিচলিত নয়: স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ‘বিশ্বকাপে কঠিন প্রতিপক্ষ হবে ভারত’ ফারুকী হত্যায় ৬ টিভি উপস্থাপকের বিরুদ্ধে পিটিশন মামলা চবি শিক্ষক বাসে দুর্বৃত্তদের হামলা ভাংচুর: ড্রাইভার আহত
|

র‌্যাবের হাতে ‘আটক’ শিবির নেতা মাসুম ২৭ দিন ধরে নিখোঁজ

press for shibir leaderনিজস্ব প্রতিবেদক
র‌্যাব পরিচয়ে অভিযান চালিয়ে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর ২৭ দিন পার হলেও সন্ধান মেলেনি ছাত্রশিবির রাজশাহী মহানগর শাখার অফিস সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম মাসুমের।

এ ঘটনায় শিবিরের পক্ষ থেকে হরতাল-অবরোধ-বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন হলেও মাসুমকে ফিরে পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারে দ্বারে ঘুরেও সন্ধান মেলেনি।

shibir neta masumনিরুপায় মাসুমের পরিবার তার সন্ধানে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে মাসুমকে খুন করা হয়ে থাকতে পারে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

গত ৪ এপ্রিল রাতে আনোয়ারুল ইসলাম মাসুমকে রাজশাহীর বিলসিমলায় (বন্ধগেট এলাকা) অবস্থিত তার মামার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় র‌্যাব-৫ এর সদস্যরা। এরপর তাকে আদালতে হাজির করা হয়নি। আবার তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো কিছুই পরিবারকে অবহিত করা হচ্ছে না।

সত্যিকার অর্থে মাসুমের ভাগ্যে কি ঘটেছে তা নিয়ে পুলিশ, র‌্যাব মুখ খুলছে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এ ভূমিকায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে তার পরিবারের।

গত মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ছেলে মাসুমের সন্ধান চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মাসুমে মা নূরজাহান বেগম। তিনি প্রিয় সন্তানের সন্ধানে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ করেছেন।

এ সময় মাসুমের বড় বোন মাহমুদা পারভীন, ছোট বোন হোসনে আরাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া মাসুমের আটক এবং এরপর থেকে সন্ধান না পাওয়ায় প্রতিবাদে ফুঁসে উঠছে রাজশাহী ও তার জন্মস্থান চাঁপাইনবাবগঞ্জ। তারা অবিলম্বে শিবির নেতা মাসুমকে আদালতে হাজির করে নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছে।

ইতোমধ্যে আনোয়ারুল ইসলাম মাসুমের সন্ধান এবং মুক্তি দাবিতে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ছাত্রশিবির টানা ৬০ ঘণ্টার হরতাল পালন করেছে। এতেও সরকারের টনক না নড়লে কঠোর কর্মসূচির হুমকি দিয়েছে ছাত্রশিবির।

মঙ্গলবারের সংবাদ সম্মেলন থেকে মাসুমের পরিবারের সদস্যরা তুলে ধরেন কিভাবে মাসুমকে র‌্যাব-৫ এর সদস্যরা তুলে নিয়ে যায়। এরপর সন্তানের খোঁজে কিভাবে তারা প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ৪ এপ্রিল রাত আড়াইটার দিকে র‌্যাব সদস্য বুলবুল, নাহিদসহ ৩০/৪০ জন উপশহর বন্ধগেট এলাকায় মাসুমের মামার বাসায় অভিযান চালায়।

র‌্যাব সদস্যরা বাসার কলাপসিবল গেটের তালা ভেঙে দোতলায় উঠে। এ সময় তারা বিভিন্ন রুমে তল্লাশি চালিয়ে কাউকে না পেয়ে তৃতীয় তলায় গিয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় মাসুমকে আটক করে।

এ সময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের এক রুমে আটকে অন্য রুমে মাসুমের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। এক ঘণ্টা ধরে নির্যাতন চালানোর পর তার ল্যাপটপ, বাসার ডেক্সটপ কম্পিউটার, ৫/৬টি মোবাইল ও র‌্যাব সদস্যদের নিজেদের ২টি পিস্তল তার সামনে দিয়ে ছবি উঠিয়ে নেয় র‌্যাব সদস্যরা। এরপর ভোর সোয়া ৫টার দিকে তাকে নিয়ে নগরীর বিভিন্ন ছাত্রাবাসে অভিযান চালায় র‌্যাব।

মাসুমকে নিয়ে যাওয়ার পর নগরীর বোয়ালিয়া, রাজপাড়া থানাসহ র‌্যাব-৫ এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা মাসুমকে আটকের বিষয়টি অস্বীকার করে। এরপর গত ১৭ এপ্রিল চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানা ও রাজপাড়া থানায় জিডি করতে গেলে তা থানা ফিরিয়ে দেয়।

এরপর মাসুমের সন্ধান চেয়ে তার পরিবার র‌্যাব মহাপরিচালক, পুলিশের মহাপরিদর্শক, রাজশাহী পুলিশ কমিশনার ও মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছেও আবেদন করেছেন।

আপনার মতামত দিন

সর্ব শেষ